Skip to main content

লালু' । শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


১।তিনি পা মচকে প্রায় সাত-আটদিন খুঁড়িয়ে চলতেন!” () উদ্ধৃতিতে উল্লেখিত 'তিনি' কে?

উদ্ধৃতিটি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিরচিত 'লালু' গদ্যাংশ থেকে গৃহীত।

উল্লিখিত অংশে "তিনি " বলতে নন্দরানী কথা বলা হয়েছে।

() কী কারণে তিনি পা মচকে খুঁড়িয়ে চলতেন?

লালু সবাইকে জব্দ করার কৌশল করত। একদিন সে তার মাকে রবারের সাপ দেখিয়ে এমন ভয় দেখাল যে, তিনি ভয়ে পালাতে গিয়ে মা মচকে খুঁড়িয়ে চলতে লাগলেন।

() এই ঘটনায় তিনি কী করতে উদ্যোগ নেন?

এই ঘটনায় তিনি লালুর জন্য একটি গৃহ শিক্ষকের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন। যাতে সে সন্ধ্যার সময় কোনো উপদ্রব করতে না পারে।

() কীভাবে তার সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

তার অর্থাৎ লালুর 'মা' নন্দরানীর উদ্যোগ ব্যর্থ হয় যখন লালুর বাবা বলেন সে তিনি নিজ ইচ্ছায় বিদ্যালাভ করেছেন ছেলেও যেন একইভাবে বিদ্যা লাভ করে। এছাড়া যদি লালু পরীক্ষায় প্রথম হতে না পারে তাহলে তার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হবে।

 

২। তিনি বৃদ্ধ, ফরিদপুর থেকে এতো দূরে আসতে রাজি হন না।" () "তিনি" কে?

উদ্ধৃত অংশে "তিনি" হলেন নন্দরাণীর গুরুদেব।

() তিনি কোথায় আসতে রাজি হন না?

তিনি নন্দরানীর বাড়ি আসতে রাজি হন না। বৃদ্ধ হওয়ার জন্য অনেক দূরের সফর করতে তার অসুবিধা হয়।

() কোন ঘটনাক্রমে শেষ পর্যন্ত তিনি এত দূরে আসতে চেয়েছিলেন?

সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে গুরুদেব কাশীতে এসেছিলেন, তাই তিনি ফেরার পথে নন্দরাণীকে আর্শীবাদ করতে এত দূরে আসতে রাজী হয়েছিলেন।

() তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বাড়ির কর্ত্রীর যে উদ্যোগ, তার বর্ণনা দাও।

তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বাড়ির কর্ত্রী অর্থাৎ নন্দরানী নীচের বড় ঘর থেকে -আসবাবপত্র সরিয়ে নতুন ফিতের খাট, নতুন শয্যা তৈরি করলেন, ঘরের পাশেই গুরুদেবের পুজোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

৩। কিন্তু গভীর রাতে অকস্মাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে গেল।" () কার ঘুম ভেঙে গেল?

গুরুদেবের ঘুম অকস্মাৎ ভেঙে গেল।

() কোন রাতের কথা বলা হয়েছে?

যেদিন গুরুদেব নন্দরাণীর বাড়িতে এসে পৌঁছালেন সেইদিন ক্লান্ত হয়ে আহারাদি সেরে শয্যা গ্রহণ করেছিলেন। সেই দিনের কথা হয়েছে।

() ঘুম ভাঙার পর তিনি প্রাথমিকভাবে কী করলেন?

ঘুম ভাঙার পর প্রাথমিকভাবে তিনি মশারির বাইরে এসে পেট মুছলেন ফিতের খাট মশারি শুদ্ধ টেনে আনলেন।বার বার খাট সরানো সত্ত্বেও তার সমস্যার সমাধান হয়নি।

() অবশিষ্ট রাত তাঁর কীভাবে কাটল?

অবশিষ্ট রাত তিনি বাইরে বসে কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু মশার উপদ্রবে তা আর সম্ভব হয়নি।

তাই তিনি ঘরের এক কোণে বসে রাত কাটিয়েছিলেন।

৪। "গুরুদেব অগত্যা তাতেই বসলেন।
 (
) ' গুরুদেব' কে এবং তিনি কোথায় বসলেন।

আলোচ্য অংশে গুরুদেব হলেন, নন্দরানীর গুরুদেব যিনি, দর্শনশাস্ত্রের জ্ঞানী পণ্ডিত স্মৃতিরত্ন উপাধিতে সম্মানিত।তিনি বাইরে বেঞ্চিতে বসলেন।

() গুরুদেবকে সেখানে বসতে হল কেন?

গুরুদেব বাধ্য হয়ে বেঞ্চিতে বসলেন।গুরদেব রাত্রে লালুর দুষ্টুমির শিকার হয়েছিলেন। তিনি বাধ্য হয়ে একটি বেঞ্চিতে বসলেন যেখানে লালুর বাবার গরীব মক্কেলগুলো বসে

() সেখানে তাঁর কী অভিজ্ঞতা হল?

সেখানে বসে গুরুদেবের আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগল কিন্তু কিছু সময় সেখানে বসার পর মশারা তার সঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে তার উপর আক্রমণ পর্যন্ত করেছিল।

() তার এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কী সিদ্ধান্ত করলেন?

তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেকভাবে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। তাই শেষমেষ আত্মসমর্পন করে দেন মশার বাহিনীর কাছে নিজেকেও বলেন যদি প্রাণ বেঁচে থাকে তাহলে আর এদেশে কোনোদিনও আসবেন না।

 

৫। "নীচে নেমে দেখলেন।

() নীচে নেমে কে, কী দেখলেন?

নিচে নেমে নন্দরানী দেখলেন গুরুদেবের ঘরের দরজা খোলা। ঘরের মধ্যে সমস্ত জিনিস লন্ডভন্ড হয়ে আছে। দক্ষিণের খাট উত্তরে ক্যাম্বিসের ব্যাগ মাঝখানে, কোষাকুষি আসন সব এলোখেলো হয়ে পড়ে আছে।

() তিনি কী ভেবে 'ভোের না হতেই' উঠেছিলেন?

তিনি অর্থাৎ নন্দরানী ভোের না হতেই ঘুম থেকে উঠেছিলেন যে তিনি বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম খুব তাড়াতাড়ি সেরে গুরুদেবের ভালো করে পরিচর্যা করবেন।

() শেষ পর্যন্ত তার কী অবস্থা হল?

নন্দরানী সবকিছু দেখার পর ভয়ে লজ্জায় অপমানিত বোধ করলেন কাঁদতে শুরু করলেন।

() গুরুদেবের অবস্থার জন্য তিনি কাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি কী করেন?

গুরুদেবের অবস্থার জন্য তিনি লালুকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন দশ- এগারো বছরের ছেলে, যে সব দুষ্টু বুদ্ধি করে মাসির বাডি চলে গেছে।

৬। কিন্তু বলতে বলতেই তাঁর সহসা মনে হল

 () কার, কী মনে হল?

লালুর মা নন্দরানির মনে হলো সবকিছু লালুর শয়তানি বুদ্ধি।

() কোন প্রসঙ্গে তাঁর এমন মনে হল?

গুরুদেব বললেন ছাদ ফুঁড়ে জল নামছে যার ফলে তিনি সারারাত ঘুমোতে পারেননি, তখন নন্দরানির লালুর শয়তানির কথা মনে হয়েছিল।

() মনে হওয়ার পর তিনি কী করলেন?

মনে হওয়ার পর তিনি পাগলের মতো ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসেন।চাকরদের মধ্যে যাকে দেখতে পেলেন তাকে হুকুম দিলেন যে বাড়ির সমস্ত কাজ ফেলে লালুকে যেন মারতে মারতে নিয়ে আসা হয়।

() ঘরে গিয়ে তিনি কী দেখলেন এবং তারপর তিনি কী করলেন?

ঘরে গিয়ে তিনি দেখলেনও সকলকে সমস্ত বিষয় দেখালেন সমস্ত ঘটনা সবাইকে বললেন লালুর শাস্তি সম্পর্কে লালুর বাবার কাছে জানতে চাইলেন।

 

৭। সে জানত বাড়িতে মাস্টার ডেকে আনা আর পুলিশ ডেকে আনা সমান।

 () 'সে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

সে বলতে লেখকের বন্ধু লালুর কথা বলা হয়েছে।

() কোন প্রসঙ্গে বাড়িতে মাস্টার ডাকার কথা এসেছে?

লালু যখন রবারের সাপ দেখিয়ে তার মাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল তার মায়ের পায়ে খুব আঘাত লেগেছিল। তখন তার মা উদ্ধৃত প্রসঙ্গে কথাটা বলেছিল।

() কীভাবে মাস্টার ডাকার ব্যাপারটি চাপা পড়ে গেল?
লালুর 'মা' নন্দরানীর উদ্যোগ ব্যর্থ হয় যখন লালুর বাবা বলেন সে তিনি নিজ ইচ্ছায় বিদ্যালাভ করেছেন ছেলেও যেন একইভাবে বিদ্যা লাভ করে। এছাড়া যদি লালু পরীক্ষায় প্রথম হতে না পারে তাহলে তার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হবে।

 

() মাস্টার ডাকা আর পুলিশ ডাকা তার কাছে সমান কেন?

বাড়িতে মাস্টার আর পুলিশ ডাকা সমান কারণ পুলিশ তার ক্ষমতা দিয়ে সবাইকে ভয় দেখিয়ে নিজের মনের মতো কোনো কাজ করতে দেবে না চোখে চোখে রাখবে ঠিক তেমন গৃহশিক্ষক বাড়ির কাজ পড়াশোনায় ব্যস্ত রাখবেন তাকে দুষ্টুমি করতে দেবেন না।

. ভয়ে ভয়ে দোর খুলে বারান্দায় এলেন।

 () ভয়ে ভয়ে কে, কোথা থেকে বারান্দায় এলেন?

ভয়ে ভয়ে স্মৃতিরত্ন অর্থাৎ লালুর মায়ের গুরুদের ঘর থেকে বাইরে এলেন।

() তিনি ভয়ে ভয়েই বা এলেন কেন?

তিনি ভয়ে ভয়েই এলেন কারণ তিনি ভাবছিলেন বাইরে জোর বৃষ্টি হচ্ছে আবার ছাত ফেটে ঘরেও জল পড়ছে, ছাদ ভেঙে মাথায় পড়লে তার মৃত্যু ঘটবে।

() বারান্দায় এসে তিনি কী করলেন?

বারান্দায় এসে দেখলেন লণ্ঠন জ্বলছে। তিনি দেখলেন চারিদিকে অন্ধকার। চাকর - বাকরদের দেখতে না পেয়ে চেঁচিয়ে ডাকলেন কিন্তু কারোর সাড়া না পেয়ে লালুর বাবার মক্কেলদের বসা বেঞ্চিতে বসলেন।

() তিনি বাকি রাতটা কীভাবে কাটালেন?

তিনি বাকি রাত ভেবেছিলেন বাইরে বসেই কাটিয়ে দেবেন কিন্তু মশার বহিনীর আক্রমণে তা সম্ভব হয়নি।তাই তিনি ঘরের এক কোণে অনেক কিছু চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন তার রাত অতিবাহিত হয়।

৯। ঘরের মধ্যে জলের জন্য যেমন, ঘরের বাইরে

মশার জন্য তেমন।"

() কোন প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে?

স্মৃতিরত্ন যখন নিদ্রাকান্ত অবস্থায় ঘুমের মধ্যে মগ্ন হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন তখন তার পেটের উপর জল পড়ে সেই জল থেকে বাঁচতে খাট এদিক ওদিক করতে থাকেন।কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে না পেরে বাইরে চলে যান তখন তাকে মশার বাহিনী বিরক্ত করতে থাকে, সেই প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে।

() ঘরের মধ্যে জলের জন্য কার, কী হল?

ঘরের মধ্যে জলের জন্য স্মৃতিরত্নের ঘুমের অভাব ঘটে তাকে সারা ঘর ঘুরে বেড়াতে হয় তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়।

যার জন্য তিনি ভেবেছিলেন এই শহরে আর আসবেন না।

() ঘরের বাইরে মশার জন্যই বা তাকে কেমন অবস্থায় পড়তে হল?

ঘরের বাইরে মশার বাহিনী তাকে শান্তিতে বসতে দেয়নি, মশার বাহিনী তাকে পুলিশের মতো ধাওয়া করে যার ফলে দৌড়াদৌড়ি করে তিনি ঠান্ডার সময়েও ঘামে ভিজে গিয়েছিলেন।

() শেষ পর্যন্ত কী ঘটল?

শেষ পর্যন্ত তিনি হার মানতে বাধ্য হন। সমস্ত হাল ছেড়ে দিয়ে মশার বাহিনীর সামনে আত্মসমর্পন করে দেন তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।

১০। "আর একদিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।" () উদ্ধৃতিতে কার কথা বলা হয়েছে?

উদ্ধৃতিতে লালুর বাবার কথা বলা হয়েছে।

() তিনি আর একদিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন কেন?

লালুর দুষ্টুমিতে গুরুদেব নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন। গুরুদেব কিছু বুঝতে না পেরে এই শহরে কোনোদিন না আসার সিদ্ধান্তও নিয়ে নিয়েছিলেন। লালুর মা, গুরুদেবের অবস্থা দেখিয়ে নালুর শাস্তির কথা বললে লালুর বাবা মুখ ফিরিয়ে রইলেন।

() তাঁর এভাবে দাঁড়ানো কি যুক্তিসঙ্গত ছিল?

লালুর বাবুর ওইভাবে দাঁড়ালেন ছেলের দুষ্টুমির জন্য। বাড়িতে আসা একজন সম্মানীয় অতিথিকে নাজেহাল করাতে, লালুর বাবা লজ্জিত। তিনি বুঝতে পারেননি কীভাবে তার ছেলেকে এর প্রকৃত শাস্তি দেবেন।

() লালুর সম্পর্কে শেষে কী জানা গেল?

লালু সর্ম্পকে শেষে জানা গেল সমস্ত দুষ্টুমির কাণ্ড ঘটিয়ে সে তার মাসির বাড়ি চলে গেছে শাস্তির হাত থেকে বাঁচার জন্য।

১১। "যে গাড়ি প্রথমে পাব সেই গাড়িতে দেশে পালাব।
(
) ভাবনাটি কার?

ভাবনাটি হল লালুর মা নন্দরানীর সন্মানীয় গুরুদেব স্মৃতিরত্নের।

() আর এই ভাবনার কারণ কী?

শিষ্যার বাড়িতে এসে ক্লান্ত হয়ে একটু শান্তিনিদ্রা পাওয়ার জন্য গুরুদের বিছানায় শুয়েছিলেন কিন্তু লালুর দুষ্টুমির ফলাফলের জন্য তিনি সারাঘর ঘুরে বাইরে বসে মশার কামড় খেয়ে" যে গাড়ি প্রথম পাব সেই গাড়িতে দেশে পালাব" কথাটি ভেবে বলেছিলেন।

() 'দেশ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

'দেশ' বলতে স্মৃতিরত্ন যে জায়গায় থাকেন সেই স্থান বা জায়গাকে বলা হয়েছে।

() কীভাবে সমস্ত রহস্যের সমাধান হল?

সমস্ত রহস্যের সমাধান তখন হল যখন লালুর মা এসে বললেন তিনতলা বাড়িতে নীচের ঘরে ছাত ফুঁড়ে জল পড়া সম্ভব নয়। তাছাড়া লালুর মা দেখলেন মশারির ওপর বরফের টুকরো ছিল, সেটি গলে সারারাত জল পড়েছে।

 

Comments